কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হওয়ার পর সুস্থ হয়ে ওঠা মানুষদের বেশিরভাগই অন্তত পাঁচ মাস পুনরায় এ ভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি থেকে মুক্ত থাকেন। যারা কখনোই আক্রান্ত হননি তাদের তুলনায় এসব মানুষের সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি ৮৩ শতাংশ কমে যায়। পাবলিক হেলথ ইংল্যান্ড পরিচালিত সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এমন তথ্য পাওয়ার দাবি করেছেন বিজ্ঞানীরা। তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, আক্রান্ত হওয়ার পূর্ব ইতিহাস থাকার পরও কিছু কিছু মানুষ ওই সময়সীমার আগেই আবারও আক্রান্ত হয়ে যেতে পারেন এবং অন্যদের সংক্রমিত করতে পারেন।

গবেষণার অংশ হিসেবে ১২ মাস ধরে স্বাস্থ্যকর্মীদেরকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল। দেখা হচ্ছিলো, কতদিন পর্যন্ত তাদের শরীরে ইমিউনিটি থাকছে। গত বছরের জুন থেকে নভেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাজ্যজুড়ে প্রায় ২১ হাজার স্বাস্থ্যকর্মীর শরীরে নিয়মিত করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে। যাদের শরীরে অ্যান্টিবডি পাওয়া যায়নি ধরে নেওয়া হয়েছিল তারা কখনও আক্রান্ত হননি। পরীক্ষায় দেখা গেছে ওই পাঁচ মাসে এসব স্বাস্থ্যকর্মীর মধ্যে ৩১৮ জন নতুন সংক্রমিত হয়েছেন। আর এন্টিবডি থাকা ৬ হাজার ৬১৪ জন স্বাস্থ্যকর্মীর মধ্যে নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল মাত্র ৪৪ জন।

গবেষণায় নেতৃত্ব দিয়েছেন অধ্যাপক সুসান হপকিন্স। তিনি জানান, গবেষণায় প্রাপ্ত ফল খুব উৎসাহব্যঞ্জক। কারণ এর মধ্য দিয়ে দেখা গেছে মানুষের শরীরে যে সময় পর্যন্ত ইমিউনিটি থাকার কথা ভাবা হচ্ছিলো, তার চেয়ে বেশিদিন ইমিউনিটি থাকে।

তবে এ ‍সুরক্ষাকে পরিপূর্ণ সুরক্ষা বলতে রাজি নন সুসান। তিনি জানান, গবেষণায় দেখা গেছে যারা দ্বিতীয় দফায় আক্রান্ত হয়েছেন তাদের কারও কারও শরীরে উচ্চ মাত্রায় ভাইরাসের উপস্তিতি ছিল, তাদের উপসর্গ ছিল না। এমনকি তাদের মাধ্যমে অন্যরা আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ছিল।

‘এর মানে হলো আপনি মনে করতে পারেন যে যেহেতু আক্রান্ত হয়ে গেছেন সেক্ষেত্রে এখন আপনি সুরক্ষিত এবং পুনরায় আক্রান্ত হলেও মারাত্মক সংক্রমণের ঝুঁকি খুবই কম। তবে তারপরও মনে রাখবেন আপনি সংক্রমিত হতে পারেন এবং অন্যের মাঝে তা ছড়াতেও পারেন। সেকারণে আমাদের স্বাস্থ্য সেবার সুরক্ষায় এবং জীবন বাঁচাতে আমাদের সবার বাড়িতে থাকাটা জরুরি।’ বলেন সুসান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *